জাতীয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৬বার সিডিউল

কাজী ফরিদ আহম্মেদঃ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন পুরানা পল্টনের ১৪ ও ২১/২ নং হোল্ডিংয়ের মাঝখানে নিউ ধানসিঁড়ি হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টের রাস্তার উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ২০১৪ সাল থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্রশাসক মোঃ আলমগীর ও তৎপরবর্তী দুই জন নির্বাচিত মেয়র এর মধ্যে সাঈদ খোকন ও বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদের আদেশ দিয়ে আসছেন এ বিষয়ে তিনটি নথী হয় এবং ৬ বার সিডিউল ঘোষনা করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তারা কোন না কোন অজুহাতে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করছেন না।

জানা যায় ২০১৩ সালে স্বারক নং ৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২.৪০৬৬.২০১৩ তারিখ -৩০ শে মে ২০১৩ ইং তারিখে পুরানা পল্টনের অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদের আদেশ হয়। তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ছিলেন মোঃ নজরুল ইসলাম। তখন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি অজ্ঞাত কারনে এড়িয়ে যান। তখন দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন কবির মাহমুদ।

২য় নথী নম্বরঃ ৪৬.২০৭.০০০.০৩.০২.১২১০/২০১৫ তারিখ – ১০/১২/২০১৫ এই ফাইলটি আইন বিভাগের মতামত সহ উল্লেখ করা হয় যে, বর্নিত জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত করার লক্ষ্যে তথায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোন রুপ আইনগত বাধা নেই। অবৈধ স্থাপনা দখল মুক্ত করতে মোবাইল কোট পরিচালনা করা যেতে পারে মর্মে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই ফাইলে দস্তখত করেন মোঃ আঃ মালেক, উপসচিব ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা, খান মোহাম্মদ বিলাল, অতিরিক্ত সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও তৎকালীন মাননীয় মেয়র সাঈদ খোকন তারিখঃ ০৭-০৮-২০১৮ইং।

৩য় নথি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নথি নম্বর- এষ্টেট/১০০৯ তারিখঃ ৪/৫/২০০৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বারক নং-৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২.৮২৩,২০১৬ তারিখ-২৯/৫/২০১৬ উক্ত নথির সৃষ্টি হয়। এবং উক্ত ফাইলটি ধারা বাহিক চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায় তখন মোঃ সহিদুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাবিবুর রহমানের সন্তান।মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জায়গাটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য পুনরায় ১৩/৯/২০২১ ইং তারিখে দরখাস্ত করেন। তখন এই নথিটি আবার প্রকাশ্যে আসে এবং বর্তমান মাননীয় মেয়র ফজলে নুর তাপসের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। তিনি জরুরী ভিত্তিতে উক্ত অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই পর্যন্ত ৬বার উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে পত্র প্রেরন করেন।
নিম্মে তা উল্লেখ করা হলো।
১। স্বারক নং- ৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২.৪৩০৯.২০১৯/৩৬৮৪ তারিখঃ ২০/২/২০১৯ বিষয়ঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ভুমি হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন। উক্ত পত্রে পুরানা পল্টনের ১৪ও ২১/২,হোল্ডিং এর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৮/০২//২০১৯খ্রীঃ। উহাতে মোঃ শফিউল্লাহ সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোবাইল নং-০১৭১২৮৬৪৮৫০ কে দায়িত্ব দেয়া হয়।

২য় সিডিউলঃ স্বারক নং-৪৬.২০৭.০০০. ১৩.০২. ৪৩০৯.২০১৯/ ৩৬৯৮ তারিখঃ ০৬/০৩/২০১৯ খ্রীঃ
উক্ত পত্রে ১৩/০৩/২০১৯ তারিখে পুরানা পল্টনের ১৪ ও২১/২ নং হোল্ডিংয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য পুলিশ চাওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয় মোঃ সফিউল্লাহকে।

৩য় সিডিউলঃ স্বারক নং-৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২. ৪৩০৯.২০১৯-৩৬৯৮ তারিখঃ ১২/০৩/২০১৯ খ্রীঃ (একই স্বারকে প্রতিস্থাপিত)। উক্ত স্থাপনাটি উচ্ছেদের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৩/০৩/২০১৯ খ্রীঃ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদ রানা মোবাইল নং-০১৭১১২৩৯১৮৪ কে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি গিয়ে উচ্ছেদ না করে স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
৪র্থ সিডিউলঃ স্বারক নং-৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২.২৩২.২০১১.২০১৯/৪০৮১ তারিখঃ ৩০/১০/২০১৯ খ্রীঃ উক্ত স্থাপনাটির উচ্ছেদের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ০৫/১১/২০১৯ খ্রীঃ দায়িত্ব দেয়া হয় মোঃ মনিরুজ্জামান,সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, উক্ত কর্মকর্তা স্থাপনাটি উচ্ছেদ না করে জনগনের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারী করে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়।
৫ম সিডিউলঃ স্বারক নং-৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২-১৬৫৬/২০২১ তারিখঃ ২৯/১২/২০২১ খ্রীঃ একটি মাত্র স্থাপনা উচ্ছেদের সিডিউল দেয়া হয়। এবং তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৬/০১/২০২২ খ্রীঃ দায়িত্ব দেয়া হয় মোঃ মনিরুজ্জামান, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোবাইল নং-০১৭১৭২৭৮০২২।তিনি ও স্থাপনাটি উচ্ছেদ করেননি। এমনকি সে উক্ত তারিখে উচ্ছেদের স্থানেই যায়নি।

৬ষ্ট সিডিউলঃ স্বারক নং-৪৬.২০৭.০০০.১৩.০২.২০২০.-২০২২ তারিখঃ-১৭/০৪/২০২২। নিউজ লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ সিডিউল দেয়া হয় ১১/০৫/২০২২ খ্রীঃ দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার আব্দুস সামাদ শিকদার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোবাইল নং-০১৯১২-০৫৪২৮০।
স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য তিনি পল্টনের ঐ স্থানে যাই নাই।কারন অজ্ঞাত। বিষয়টি নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

তবে আমরা অনুসন্ধান করে যা পেয়েছি তা হলো প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা যখন উক্ত স্থানের স্থাপনাটি উচ্ছেদের সিডিউল দেন তখন একই আদেশ কপির মধ্যে একই তারিখে আরোও কয়েকটি স্থাপনার উচ্ছেদের লিষ্ট দেন। এবং পল্টনের স্থাপনার লিষ্ট থাকে ২/৩টির পর।তিনি দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেটকে বলে দেন প্রথম স্থাপনা গুলি উচ্ছেদ করা জরুরী। ফলে ম্যাজিষ্ট্রেট প্রথম দিকের স্থাপনা গুলি অপসারন করতে গিয়ে ঐ দিন শেষ হয়ে যায়। পল্টনের স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা আর হয়ে উঠে না।এভাবে একের পর এক সিডিউল দিলেও স্থাপনাটি উচ্ছেদ হচ্ছে না। পল্টনের স্থাপনাটি আদৌ কোন দিন উচ্ছেদ হবে কি না তা দায়িত্ব প্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট ও বলতে পারছেন না। আমাদের নির্ভর যোগ্য সুত্র জানায় যেখানে ২০/২৫ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয় আছে সেখানেতো সিডিউলই হবে। উচ্ছেদ হবে না। বিষয়টি এখন শুভংকরের ফাকি। কায়দা করে বড় কর্মকর্তাদের আদেশ কে কৌশলের টুপি পড়ানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.